সিডনির সদ্য নির্মিত দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ উদ্বোধনের পর এর কিম্ভুতকিমাকার ডিজাইন নিয়ে বাংলাদেশি কমিউনিটিতে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার, অপপ্রচার, প্রতিবাদ-পাল্টা প্রতিবাদ, মানববন্ধন সহ বিভিন্ন প্রকার কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়। ফলে বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে দ্বিধা বিভক্তির সৃষ্টি এবং বর্হিবিশ্বে সিডনির প্রবাসিদের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়া প্রবাসিদের প্রাণের দাবি ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের’ আদলে স্মৃতিস্তম্ভ পূন নির্মাণ ও কমিউনিটিকে একত্রিত করণের লক্ষে সাবেক কাউন্সিলর শাহে জামান টিটোর উদ্যোগে গতকাল ৪ মার্চ (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যায় মিডিয়ার সাথে স্মৃতিসৌধ বাস্তবায়ন কমিটির এক জরুরী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কমিউনিটির বৃহত্তর স্বার্থে আলোচনা সভায় তাদের ভুল স্বীকার করে মিডিয়ার মাধ্যমে নিম্নলিখিত প্রস্তাব পেশ করা হয়।
ক) আগামি ৬ মার্চ লাকেম্বায় আহব্বানকৃত মানববন্ধন কর্মসূী যদি স্থগিত করা হয় তাহলে একই দিনে স্মৃতিসৌধ বাস্তবায়ন কমিটির চা-চক্র অনুষ্ঠান স্থগিত করা হবে এবং পরবর্তীতে কমিউনিটির সবাইকে নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হবে। খ) বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন ও কমিউনিটির নেতৃবন্দের পরামর্শক্রমে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা এবং কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের’ আদলেই স্মৃতিস্তম্ভ পূন নির্মাণ করা হবে। গ) কমিউনিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক এবং কমিউনিটির মাধ্যমেই নতুন ডিজাই অনুযায়ী পূন নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন (কাউন্সিলের অনুমোদনক্রম) করা হবে। ঘ) কমিউনিটির স্বার্থে কোন পক্ষই আর কটুক্তিকর পোস্ট দিবেননা। ঙ) আকিদুল ইসলাম এবং আল নোমান শামীম সহ অন্যান্যদের ফেসবুক থেকে অতীতের সকল কটুক্তিকর পোস্ট ডিলেট করবেন (আকিদুল ইসলাম আগে ডিলেট করলে আল নোমান শামীম সহ অন্যান্যরাও সাথে সাথেই ডিলেট করবেন)। চ) লাকেম্বায় আহব্বানকৃত মানববন্ধন কর্মসূী স্থগিতে সম্মত হলে স্মৃতিসৌধ বাস্তবায়ন কমিটির দুই সদস্য শুক্রবার দুপুরে বাসভূমির লাইভে এসে জনসমক্ষে তাদের অভিব্যক্তি জানাবেন এবং আগামি ৮ মার্চ অস্ট্রেলিয়া টাইমস্ এর অনুষ্ঠানে তাদের পাঁচ সদস্য উপস্থিত থাকবেন।
উল্লেখ যে, কমিউনিটির বৃহত্তর স্বার্থে আগামি ৬ মার্চ লাকেম্বায় আহব্বানকৃত মানববন্ধন কর্মসূী স্থগিত ঘোষণা করা হলেই উপরোক্ত প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন সম্ভব।