ইতোমধ্যে আমেরিকান বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Boeing-এর সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের Biman Bangladesh Airlines এর একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। তবে এটি শুধু 787 কেনার চুক্তি নয় মোট ১৪টি বিমান কেনার চুক্তি। Boeing Investors +1 চুক্তিতে যে বিমানগুলো আছে।
✈️ বিমান সংখ্যা:মোট ১৪ টি
Boeing 787 10 Dreamliner-৮টি,Boeing 787-9 Dreamliner-২টি,Boeing 737-8 MAX ৪টি মোট ১৪টি বিমান
অর্থাৎ ১০টি Boeing 787 Dreamliner—৮টি 787-10 এবং ২টি 787-9—কেনার চুক্তি হয়েছে।
Boeing Investors:
চুক্তিটি ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ঢাকায় Biman Bangladesh Airlines ও Boeing-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে। তালিকামূল্যে পুরো প্যাকেজের মূল্য আনুমানিক ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
Reuters +1
প্রথম বিমানটি ২০৩১ সালের নভেম্বরের দিকে পাওয়ার কথা, এবং বাকি বিমানগুলো পর্যায়ক্রমে ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে আসার কথা।
আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ আরও Boeing বিমান কিনবে—এমন বক্তব্য এসেছে। কিন্তু ১ সেপ্টেম্বরের সরকারি বক্তব্য অনুযায়ী, ১৪টি বিমানের এই চুক্তির বাইরে নতুন কোনো পৃথক Boeing চুক্তি এখনো স্বাক্ষরিত হয়নি।
তথ্য অনুযায়ী, ১৪টি Boeing বিমানের তালিকামূল্য প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বাংলাদেশি টাকায় ১ ডলার ≈ ১২২ টাকা ধরলে এটি প্রায় ৪৫,১৪০ কোটি টাকা। তবে এটি list price—চূড়ান্ত বাণিজ্যিক মূল্য ও অর্থায়নের কাঠামো আলাদা হতে পারে।
টাকা কীভাবে পরিশোধ করবে বাংলাদেশ সরকার?
চুক্তির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী:
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় মোট মূল্যের ০.৫% Biman-কে signing money হিসেবে দিতে হবে।
বাকি অর্থ দীর্ঘমেয়াদি ঋণের মাধ্যমে পরিশোধের ব্যবস্থা করা হবে।
US Export-Import Bank (EXIM Bank) এই ক্রয়ের জন্য ঋণের ব্যবস্থা করবে।
বাংলাদেশের সরকার এই ঋণের জন্য সার্বভৌম গ্যারান্টি (sovereign guarantee) দেবে।
অর্থাৎ, বাংলাদেশ সরকার একবারে ৪৫ হাজার কোটি টাকা নগদ দিয়ে বিমানগুলো কিনছে না। মূলত ঋণ নিয়ে বিমানগুলোর মূল্য দীর্ঘ সময় ধরে কিস্তিতে পরিশোধ করার কাঠামো থাকবে।
একটি সহজ হিসাব
৩.৭ বিলিয়ন ডলার × ০.৫% = ১৮.৫ মিলিয়ন ডলার।
অর্থাৎ শুধু ০.৫% signing money আনুমানিক ২২৬ কোটি টাকা (১ ডলার = ১২২ টাকা ধরে)।
বাকি প্রায় ৩.৬৮১৫ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন/ঋণের মাধ্যমে দেওয়ার কথা।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রথম বিমান আসবে ২০৩১ সালের নভেম্বরের দিকে এবং সব ১৪টি বিমান ২০৩৫ সালের অক্টোবরের মধ্যে আসার কথা।
ঋণের সুদসহ ২০ বছর মেয়াদে বাংলাদেশকে বছরে আনুমানিক কত টাকা কিস্তি দিতে হতে পারে?
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৪টি Boeing বিমানের চুক্তির আনুমানিক মূল্য ৩.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৪৫,০০০ কোটি টাকা। চুক্তিতে ৮টি 787-10, ২টি 787-9 এবং ৪টি 737-8 MAX রয়েছে।
যেহেতু চূড়ান্ত ঋণের সুদের হার/ফাইন্যান্সিং শর্ত প্রকাশিত হয়নি, তাই ৪৫,০০০ কোটি টাকা মূলধন ধরে ২০ বছরের সমান বার্ষিক কিস্তির আনুমানিক হিসাব করলে সুদের হার
বছরে কিস্তি ২০ বছরে মোট পরিশোধ মোট সুদ
৫% হারে ৩,৬১১ কোটি,৭২,২১৮ কোটি,২৭,২১৮ কোটি
৬% হারে ৩,৯২৩ কোটি,৭৮,৪৬৬ কোটি,৩৩,৪৬৬ কোটি
৭% হারে ৪,২৪৮ কোটি,৮৪,৯৫৪ কোটি,৩৯,৯৫৪ কোটি
৮% হারে ৪,৫৮৩ কোটি,৯১,৬৬৭ কোটি,৪৬,৬৬৭ কোটি
সহজভাবে বললে
যদি গড়ে ৬% সুদে ২০ বছরের ঋণ নেওয়া হয়, তাহলে—
মূল ঋণ: ৪৫,০০০ কোটি টাকা
মোট সুদ: প্রায় ৩৩,৪৬৬ কোটি টাকা
সুদসহ মোট পরিশোধ: প্রায় ৭৮,৪৬৬ কোটি টাকা
বছরে: প্রায় ৩,৯২৩ কোটি টাকা
মাসে গড়ে: প্রায় ৩২৭ কোটি টাকা
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৪৫,০০০ কোটি টাকা হলো বিমানের আনুমানিক list value, প্রকৃত ক্রয়মূল্য/ডিসকাউন্ট এবং কীভাবে অর্থায়ন হবে তার ওপর প্রকৃত মোট পরিশোধ অনেক কম-বেশি হতে পারে।
যেখানে দেশে অর্থনৈতিক সংকট চলমান,দ্রব্যমুল্যের উদ্ধগতি,গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে একের পর এক বন্ধ হচ্ছে শিল্প-কল কারখানা,বাড়ছে বেকারত্ব,দেশ পরিচালানা সহ রাজনৈতিক এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে হীমশীম খাচ্ছে বিএনপি সরকার,দেশের চরম এই স্থবিরতায় বোয়িং বিমান কিনার মত অভিলাসী চুক্তি সাধারন জনগন ভালো ভাবে দেখছেনা।
অনেকেই আবার ধারনা করছেন এটা বিমান কিনার কোন সাধারন চুক্তি নয় বরং বিএনপি সরকার তার ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার প্রয়োজনে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে খুশি করতেই বিমান কিনার এই চুক্তি সম্পন্ন করছেন যা এখনই প্রয়োজন ছিলনা।
আ,লীগ সরকারকে বাংলাদেশে ফেরাতে বিএনপি সরকারকে ভারত সরকারের রাজনৈতিক চাপ উপেক্ষা করতেই করা হয়েছে বিমান বোয়িং কিনার এই চুক্তি। যাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক ভাবে ভারতকে পাশ কাটিয়ে বিএনপি সরকারকে একক সাপোর্ট দেয় আর এর নেপথ্যে কলকাঠি নাড়ছেন অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা জনাব ড. মুহাম্মদ ইউনুস।