মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থান। অং সান সু চি ও তাঁর ক্ষমতাসীন দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতাকে আজ ভোরে আকস্মিকভাবে গ্রেপ্তার করে দেশটির সেনাবাহিনী।
সেনাবাহিনী দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।
এই খবরে রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশের অনেক জায়গায় উল্লাস করতে দেখা গেছে। (উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর অং সান সুচি ও তাঁর ক্ষমতাসীন দল ও দেশটির সেনাবাহিনীর অত্যাচার নির্যাতনের ভয়াল চিত্র উঠে এসেছিলো সমগ্র বিশ্বে। এরপর ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট থেকে হাজার-হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসতে থাকে)।
১৯৬২ সালে অভ্যুত্থানের পর থেকে প্রায় ৫০ বছর ধরে মিয়ানমারে সরাসরি সেনা শাসন চলেছে। দেশটিতে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে সেনাবাহিনীকে।
২০০৮ সালের সংবিধানে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা সুরক্ষিত করা হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টে সেনাবাহিনী কোটায় ২৫ শতাংশ আসন বরাদ্দ রয়েছে। প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র ও সীমান্তবিষয়ক মন্ত্রী নিয়োগের ক্ষমতা রয়েছে সেনাবাহিনীর। গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জয়ী ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির সরকারের সঙ্গে এভাবেই ক্ষমতায় ভাগ বসিয়েছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।
সেনা অভ্যুত্থানের এ ঘটনায় দেশটিতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ব্যাংক। খাদ্যের দোকানগুলোয় মানুষের ভিড় বাড়ছে। সেনা অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে টেলিফোন, মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বাধাগ্রস্ত করছে দেশটির সামরিক কর্তৃপক্ষ। দেশটির রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা টহল দিচ্ছেন।
তবে মিয়ানমারে সেনা অভ্যুত্থানের প্রতিবাদে জাপানে মিয়ানমারের নাগরিকরা প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।