1. masud.shah@gmail.com : Administrator :
  2. news.bholacrime@gmail.com : News Editor : News Editor
  3. subeditor.bholacrime@gmail.com : Sub Editor : Md. Iqbal Hossain
সেরা অদম্য সাংবাদিক রোজিনা - Bhola Crime
বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৫০ অপরাহ্ন

সেরা অদম্য সাংবাদিক রোজিনা

মোঃ মারুফ হাসান/সম্পাদক
  • বুধবার, ৩ নভেম্বর, ২০২১

প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক ও সাহিত্যিক

কাজী নজরুল ইসলামের গানে আছে: ‘ফুলমালী! ফুলের শাখা কাটো যত পার, আহত সেই ফুল-শাখাতে ধরবে কুসুম আরো।’ রোজিনা ইসলামকে যত আঘাত করা হবে, তাঁর মহত্ত্ব তত বাড়বে, তত বাড়ছে।

রোজিনা ইসলাম পেলেন সাংবাদিকতার অনেক বড় আন্তর্জাতিক পুরস্কার, নেদারল্যান্ডসের ফ্রি প্রেস আনলিমিটেড তাঁকে দিল ‘ফ্রি প্রেস অ্যাওয়ার্ড ২০২১’, তাঁকে অভিধা দিল মোস্ট রেজিলিয়েন্ট সাংবাদিক বলে।

বাংলাদেশের একজন শ্রেষ্ঠ অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হয়রানি করা হয়েছে, তাঁর অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড, পাসপোর্ট জব্দ করা হয়েছে, মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাঁকে শত বছরের পুরোনো ঔপনিবেশিক সিক্রেসি অ্যাক্টে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করে কারাগারে রাখা হয়েছে—এসব যাঁরা করেছেন, তাঁরা সরকারের ভাবমূর্তিই শুধু ক্ষুণ্ণ করেননি, দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ণ করেছেন। এই সহজ কথাটা ‘অব দ্য রেকর্ড’ সরকারের লোকেরাই আমাদের বলেন। অন দ্য রেকর্ড টেলিভিশনের টক শোগুলোতে সব আলোচকই বলেছেন। আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরাও আমাদের বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের লোকেরা করলটা কী? কেউ বলেছেন, এটা একটা সাবোটাজ। কেউ বলেছেন, এটা একটা সরকারের ‘পাবলিক রিলেশন ডিজাস্টার’। শুধু পাবলিক রিলেশন ডিজাস্টার নয়, দেশের মানুষের মুখ নিচু করে দেওয়া আর আমি বলি, মা তোর বদনখানি মলিন হলে আমি নয়ন জলে ভাসি। রোজিনা ইসলামকে শাহবাগ থানায় আটকে রাখা হয়েছে, সিএমএম আদালতে তাঁর জামিনের আবেদন করা হলো, যখন আমি শুনলাম আজকে জামিন হবে না, তখন আমার মনে হলো, আমার মায়ের মুখখানিকেই মলিন করে দেওয়া হয়েছে। আপনারা অনেকেই আমাকে কাঁদতে দেখেছিলেন। আমি আমার বোন, আমার সহকর্মী রোজিনার জন্য কাঁদিনি, আমার নিজের জন্য তো নয়ই, আমার মায়ের মুখ ওরা মলিন করে দিচ্ছে, এই এক চরম বেদনাবোধ আমাকে কান্নায় ভাসিয়েছিল।

আমি সেদিন রোজিনা ইসলামের জন্য কাঁদিনি। রোজিনা ইসলামের জন্য আমরা গৌরববোধ করি। রোজিনা ইসলাম বাংলাদেশের সাংবাদিকদের মুখ উজ্জ্বল করেন। রোজিনা ইসলামের রিপোর্টগুলো প্রমাণ করে, এই দেশে ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম হয়! সেসব প্রকাশিত হলে কাজও হয়। সরকার বা প্রশাসন বা কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। অ্যাকশন হয়। তাতে দেশের গণতন্ত্রই শক্তিশালী হয়। রোজিনাকে জেলে নেওয়া হলে রোজিনার মানহানি হয় না, রোজিনার ছোট্ট মেয়েটা কাঁদে; সকালবেলা মা ভ্যাকসিন নিতে বেরিয়েছেন, ব্যথাকাতর অবস্থাতেই তাঁর দ্বিতীয় কর্মস্থল সচিবালয়ে গেছেন, সেখান থেকে মা আর ফিরলেন না, আলভিনা অপেক্ষা করে, কেঁদে কেঁদে সারা হয়; অসুস্থ রোজিনা শারীরিক কষ্ট পান, মেয়েকে না দেখে মানসিক কষ্ট পান; কিন্তু তিনি তো অদম্য, তিনি তো মোস্ট রেজিলিয়েন্ট জার্নালিস্ট ইন দ্য ওয়ার্ল্ড। তিনি দমে যান না। রোজিনার যেদিন জামিন হলো না, আদালতের পাশে পুলিশদের ….কক্ষে তাঁকে দেখতে আমি ভেতরে ঢুকলাম, তাঁকে একটা কথা বলেছিলাম, রোজিনা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ৫ জানুয়ারি পাকিস্তানি জেলে রাজা আনার খানকে দস্তয়ভস্কির লেখা ‘ক্রাইম অ্যান্ড পানিশমেন্ট’ বইয়ে অটোগ্রাফ দিয়েছিলেন: ‘In the long war between the falsehood and the truth, falsehood wins the first battle and truth the last.’ সত্য আর মিথ্যার সুদীর্ঘ লড়াইয়ে প্রথমে জয়ী হয় মিথ্যা, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়ী হয় সত্য। তোমাকে আটকে রাখতে পারবে না।

(Collect From The Daily Prothom alo)

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020