1. masud.shah@gmail.com : Administrator :
  2. news.bholacrime@gmail.com : News Editor : News Editor
  3. subeditor.bholacrime@gmail.com : Sub Editor : Md. Iqbal Hossain
ভোলায় সাতপাঁক ঘুরে শাঁখা সিধুর দিয়ে বিয়ের নামে ধর্ষণের অভিযোগ - Bhola Crime
বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
Earning Tk 450,000 lac a Month from Social Media:Who Is Prince Ayub? সেতু ছাড়া ভোলাকে সড়কপথে যুক্তকরা ভোলাবাসীর জন্য সুখকর নয় লালমোহনে বিদ্যুত খেকো অটোরিকশার চাপায় ৭ বছরের শিশুর মৃত্যু “এজেএফবি স্টার অ্যাওয়ার্ড” এ বেস্ট শিশুশিল্পীর সম্মাননায় “আবরার এশাল” এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান এর নিজের আয়কর নথিতেই সর্ষের ভুত স্বল্প খরচে চিকিৎসা সেবা দেওয়াই কি আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ ও হসপিটাল এর অপরাধ? ভোলা ডিসি অফিসের অফিস সহকারী কমলের যত দূর্নিতী ও ক্ষমতার নেপথ্য ছিলেন কারা? না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন “তোফায়েল আহমেদ” পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গনমাধ্যমের সহযোগিতা চাইলেন হাফিজ ইব্রাহিম এম.পি ভোলায় জাল টাকা সহ এক পেশাদার করবারি গ্রেফতার

ভোলায় সাতপাঁক ঘুরে শাঁখা সিধুর দিয়ে বিয়ের নামে ধর্ষণের অভিযোগ

নিউজ এডিটর
  • মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০

ভোলা প্রতিনিধি।।
ভোলার তজুমুদ্দিনে ৪নং ওয়ার্ড, চাদপুর গ্রামের বিধবা নারী ও দুইসন্তানের জননী শ্রীমতী জয়া রানী কর্মকার (৩২)পিতা.শ্রী ননী গোপাল কর্মকারকে বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণার সংসার পাতিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ ও অর্থ আত্মসাৎ এর অভিযোগ পাওয়া যায়।

তথ্যপ্রমাণ ও ঘটনার বর্ননা ঐ নারী অভিযোগে জানান,ভোলার পৌর চরনোবাদ ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা অভিনাশ মাঝি(৩২)পিতা.মৃত সত্য রঞ্জন দাস দুইবছর শাখা সিধুর পরিয়ে,ভুয়া ঠাকুর দিয়ে মন্ত্র পরিয়ে ভোলার তজুমুদ্দিন উপজেলার বিধবা জয়া রানীর সাথে সংসারের নামে ধর্ষণ করে সহ নগদ অর্থ হাতিয়ে নেয়। তার স্বামী সংকর কুমার রায় ভোলার পাওয়ার হাউজে চাকুরির সুবাদে শহরের কে-জাহান মার্কেটের ময়ুরী ফ্যাশন টেইলারিং দোকানের কর্মচারী অভিনাষ মাঝির সাথে ২০১৮ সালে পোষাক তৈরী করার সুবাদে তার স্বামী জীবিত অবস্থায় পরিচয়ের সুত্রপাত ঘটে। স্বামীর চাকুরির অবস্থায় অসুস্থ হয়ে ৩মাস পর ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে স্বামী মারা যায়। স্বামী বিয়োগের পর বিধবা জয়া রানী তার দুই শিশুসন্তানের ভবিষ্যৎ ও ভরনপোষণ চালাতে জীবন যুদ্ধে জীবকা অর্জন উপায়ে সেলাইয়ের প্রশিক্ষন ও টেইলারিং কাজে উপার্জনের পথ বেছে নেয়।আর টেইলারিং কাজের সুত্রধরে অভিনাষ মাঝির সাথে সুসম্পর্ক গড়ে উঠে।ভোলার পৌর শহরে ৫নং ওয়ার্ডের রাহাত তালুকদারের দুই বেড বিশিষ্ট বাড়ির নীচতলায় শিশুসন্তান নিয়ে পেটপুজো করে বসবাস করে। এ সুযোগটি কাজে লাগায় লম্পট ও দূশ্চরিত্র টেইলারিং অভিনাশ মাঝি।স্বামীর ঘনিষ্ঠতা ও নিত্যকার যোগাযোগ এবং টেইলার কাজের বাহানায় কু-মতলবে সম্পর্কের দরুন কুপ্রস্তাবে দেয়।এ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে বিধবা নারী বিষয়টি বাড়ির মালিক রাহাত তালুকদার জানায়।এরপর মালিক কতৃক তাকে নিষেধ করার সত্ত্বেও নিজ কৌশল অবলম্বন করে জয়া রানীকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়।এবং তার নাবালক দুটি অবুজ শিশুদের সকল ভরনপোষণ সহ যাবতীয় দায়ভার গ্রহন করার প্রতিশ্রুতি দেয়। অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন লক্ষে হঠাৎ হিন্দু ধর্মাবলম্বী রীতিনীতি অনুযায়ী অপরিচিত দুই ব্যক্তিকে ঠাকুর পরিচয়ে সেই রাতেই শাঁখা সিধুুর পরিয়ে বিয়ের হিন্দু ধর্মের সাত-পাকে ঘুরে মন্ত্র পরে প্রতারণা মুলক বিবাহ সম্পন্ন করে। এমতাবস্থায় স্বামী হারা নারীর ও শিশুসন্তানদের প্রতি তার দরদ দেখে অাকৃষ্ট হয়।তার বড়বোন পৌর ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা অর্চনা রানীর,ভগ্নীপতি নরউত্তম চন্দ্র ঘরামীকে সাক্ষী করে স্বামী-স্ত্রী ন্যায় সংসার পাতিয়ে দৈহিক সম্পর্কে একাধিক ধর্ষণের স্বীকার হয়।এবং দুইবার অন্তসত্বা হলেও লম্পট স্বামীর কৌশলী অনুরোধে সে গর্ভের সন্তান নষ্ট করতে বাধ্যহয় বলে জানান।

সাংসারিক সম্পর্কের দরুন কাপড়ের ব্যবসার নামকরে প্রতারক অভিনাশ তার মৃত স্বামীর জমাকৃত নগদ দুইলক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।আবার কয়েকমাস পর স্বামীর পেনশনের টাকা উত্তোলন করেও তিনলাখ টাকা প্রতারণা আত্মসাৎ করে। এদিকে টাকার হিসেব না পাওয়া ও বিয়ের রেজিস্ট্রারি কালক্ষেপণ ও নিত্যকার অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন নাটকীয়তা দেখে পরিবারের সদস্যদের জানায় জয়া রানী কর্মকার।

পরে ১০নভেম্বর ২০২০ইং তারিখে পরিবারের চাপে নয়া কৌশলে ভোলার শহরে ভারা বাড়িটি ছেড়ে দিয়ে তজুমুদ্দিনে তার পিত্রালয়ে ব্যাবসা ও বিবাহের রেজিস্ট্রার সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দেয়। শ্বশুর বাড়িতে অবস্থান করে অবিনাষের স্বামী /স্ত্রী অধিকারে একাধিক রাত্রিযাপন ও ধর্ষণের স্বীকার হয় অসহায় জয়ারানী।

গত ১০/১১/২০২০ ইং তারিখে তজুমুদ্দিনে পিত্রালয় রেখে কৌশলে ভোলা শহরে আসে। হটাৎ তার সাথে যোগাযোগ বন্ধকরে দেয়।পারিবারিক অজুহাতে অন্যত্র বিয়ে করার চাপ রয়েছে বলে জানায়।সর্বশেষ বিধবার সাথে সংসার ও পাচ লাখ টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে তার প্রতারনার মুখোশ আত্মপ্রকাশ করে অভিনাশ মাঝি।

এ পরিস্থিতিতে দিশেহারা এক সমাজের বিধবা নারী যখন সামাজিক ভাবে সৃকৃতি পেতে বিভিন্ন মহলে ঘুরে সব প্রচেষ্টা শেষে আইনগত সহয়তা পেতে, তার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মামলা করেন। উক্ত মামলাটি তুলে নিতেও বিভিন্ন সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে হুমকি দেয় অভিনাষ।পরে ২৭নভেম্বর২০২০ইং তারিখে ফের অন্য এক নারীকে গোপনে বিয়ে করে বলে জানতে পারে।

এবিয়ের ঠেকাতে দিশেহারা এ নারী অভিযোগ নিয়ে ভোলার সদর থানায় ছুটে যান।
এব্যাপারে সদর থানার ওসি মো.এনায়েত হোসেন তদন্তকরে জানান,যেহেতু ভিকটিমের বাড়ি তজুমুদ্দিনে এবং বিবাহের রেজিস্ট্রার সনদও নেই।বিজ্ঞ আদালত মামলাটির তদন্তভার দেয় তজুমুদ্দিনে থানাধীন।তদন্ত রিপোর্ট না পেতে আসামির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা আইনসংগত নয়।

অভিনাশ ও জয়ারানীর ঘটনার সত্যতা জানতে ভোলা পৌর ৫নং ওয়ার্ডে বসবাসরত বাড়ির মালিক রাহাত তালুকদার ও তার স্ত্রী সুমি তালুকদার উভয়ে মধ্যেই অবৈধ সম্পর্ক ভারা থাকা অবস্থায় হয়।এছাড়া অভিনাশের আসা যাওয়া ও রাত্রিযাপন দেখে তারা সতর্ক করলেও তা চলমান রাখেন বলে জানায়।রাহাত তালুকদার বলেন, একবার অভিনাষকে গভীর রাতে আটক করলে উভয়ের মধ্যে গোপন বিবাহের হওয়ার স্বীকারোক্তির পর বিষয়টি মেনে নেয় তারা।

এবিষয়ে তজুমুদ্দিন থানার ওসি এস এম জিয়াউল হক সাংবাদিকদের জানান বিজ্ঞ আদালতের মামলাটি গত (২৪নভেম্বর ২০২০)ইং তারিখে পুলিশ কে তদন্তভার দেয়। এবং তদন্তের প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।সেক্ষেত্রে তথ্যপ্রমাণ ও তদন্তের রিপোর্টে ঘটনার সত্যতা পেলে আসামি অভিনাশ এর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলে জানায়।

এবিষয়ে ধর্ষিতা ও অন্যন্যদের সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অনিমেশ মাঝির কাছে জানতে চাইলে,তিনি ঘটনার বর্ননায় করে জয়ারানীর সাথে তার পারিবারিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল তা স্বীকার করেন।সে সম্পর্কের সুবাদে তিনি তার ভারা বাড়িতেও তিনি একাদিকবার রাত্রিযাপন করেছেন। তাদের মধ্যে অর্থের লেনদেন ছিল সেটা স্বীকার করেন।তবে ধর্মীয় রীতির অবৈধ সংসার ও ধর্ষণের বিষয়টি অস্বীকার করেন।অভিনাশ জানান স্থানীয় পর্যায়ে এনিয়ে শালিসি সিদ্ধান্ত হলে উভয়ের মোট এক লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়ে স্থানীয় বিচারে তা মিমাংসা করা হয় বলেও জানায় নারী ও শিশু মামলার আসামি অভিনাশ মাঝি।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020-2022